পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন নিয়ে পুলিশ কর্মীদের সতর্কতা সিপির
December 28, 2024
0
পাসপোর্ট তৈরির সময়ে ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে যে গোলমাল হয়, তা কার্যত মেনে নিচ্ছে লালবাজার। সে কারণে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানা এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসারদের এ বিষয়ে সতর্ক করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। শনিবার ক্রাইম কনফারেন্সে তিনি প্রতিটি থানার ওসি–কে নির্দেশ দেন, ভেরিফিকেশন নিয়ে কোনও ধরনের গাফিলতি চলবে না।
জন্য আবেদন করছেন, নিয়ম অনুযায়ী তাঁর নথিপত্র খতিয়ে দেখতে হবে। এমনকী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভারতীয় কি না, তা যাচাই করতে প্রয়োজনে বাড়িতেও যেতে হবে স্থানীয় থানার বিভাগীয় পদস্থ আধিকারিককে।
পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় বারাসতের কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সূত্রে জন্মের শংসাপত্র এবং স্কুল সার্টিফিকেট জাল করার বিষয়টি সামনে আসে। একই সঙ্গে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সময়ে পুলিশের একাংশের গাফিলতির বিষয় নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। সম্প্রতি পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন নিয়ে আলিপুর আদালতের বিচারকের প্রশ্নের মুখেও পড়েছিল কলকাতা পুলিশ। এর পরেই নড়েচড়ে বসে লালবাজার।
নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সময়ে সরেজমিনে তথ্য যাচাই করতে হয় পুলিশকে। সে ক্ষেত্রে থানার নোডাল অফিসার বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসারদের উপরে দায়িত্ব পড়ে। অভিযোগ, এই তথ্য যাচাইয়ের সময়ে কিছু পুলিশকর্মীর ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে ভুয়ো নথিতে কেউ কেউ পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশিদের হাতেও চলে যাচ্ছে ভারতীয় পাসপোর্ট।
এদিকে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকে পড়ার ঘটনাতেও বারাসত যোগ পাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। ওই এলাকার এক এজেন্ট মারফত ভুয়ো আধার এবং প্যান কার্ড তৈরি করতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মহম্মদ আবিদুর রহমান মধ্যমগ্রামের দেবীগড়ের একটি ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। সূত্রের খবর, ২০১৭ সালে আধার এবং প্যানকার্ড তৈরি করে ওই নথি নিয়ে ভারতে প্রায় দশ বছর ধরে যাতায়াত করছিলেন আবিদুর। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘কোথায় কী বিচ্যুতি হচ্ছে, সে বিষয়ে ক্রাইম কনফারেন্সে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সংশ্লিষ্ট অফিসারদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেও বলা হয়েছে।’
একে এবিটিতে রক্ষা নেই, দোসর কেএলও! নিজেদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিবৃতি জারি করে ফের মাথাচাড়া দিল কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন। দলের কোচ ন্যাশনালিজম শাখার তরফে জারি করা ওই বক্তব্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে গোয়েন্দাদের। ১৯৯৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর কেএনও–র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াংচু কোচ।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবিটি–জেএমবি–কেএলও সহ জঙ্গি সংগঠনগুলি জোট বাঁধতে পারে বলে আগেই আভাস পাওয়া গিয়েছিল। ফলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেই হচ্ছে। গোয়েন্দাদের অবশ্য এই চিন্তার পিছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কারণ, ইতিমধ্যেই জেএমবির সঙ্গে এবিটির যোগসূত্রের একটা আভাস মিলেছে।
ঠিক কী ভাবে এই মিল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে?
প্রথমে জেএমবি, তারপর নব্য জেএমবি। কিন্তু তাতেও নজর এড়ানো যায়নি গোয়েন্দাদের। অসমে আশ্রয় নিলেও একাধিক জেএমবি জঙ্গি ধরা পড়ছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে। বাংলাদেশে ফিরে গেলে শাস্তির ভয়। অন্যদিকে, এদেশে থেকে গেলে ধরা পড়ার আশঙ্কা। এই দুইয়ে মিলিয়ে প্রাক্তন জেএমবি জঙ্গিরাই কি আসলে মিশে গিয়েছিলেন আনসারুল্লা বাংলা(এবিটি)–র সঙ্গে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গোয়েন্দারা এই সম্ভাবনার কথা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এর কারণ, শুক্রবার অসম পুলিশের হাতে ধরা পড়া এবিটি জঙ্গি শাহিনুর ইসলাম। এবিটির এই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করার পরে তাঁর কাছ থেকে নাজিবুল্লা হাকানির দুটি বই বাজেয়াপ্ত করার পরে এই ধারণা দৃঢ় হয়েছে তদন্তকারীদের। গোয়েন্দাদের দাবি, যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে জেএমবি–র নেতা নাজিবুল্লা হাকানির লেখা বই পড়ানো হতো। সেখানে কী ভাবে ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতা করতে হবে সে সব কথাও লেখা ছিল। জামাতুল মুজাহিদিনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাজিবুল্লা বর্তমানে জেলবন্দি।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, ২০২০ সালে বীরভূম থেকে নাজিবুল্লাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সে সময়ে দক্ষিণবঙ্গে স্লিপার সেল তৈরির চেষ্টা করছিলেন তিনি। এবিটি নেতা শাহিনুরকে গ্রেপ্তার করার পরে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, তিনি আগে জেএমবি সদস্য ছিলেন কি না। নাকি, অসমের বরপেটা সহ একাধিক জায়গা থেকে জেএমবি জঙ্গিদের ধরপাকড় দেখে তড়িঘড়ি এবিটিতে ভিড়ে গিয়েছিলেন? তদন্তকারীরা জানতে চান,
শাহিনুর কি জেএমবির সদস্য ছিলেন নাকি আনসারুল্লা বাংলা টিমের? নাজিবুল্লার সঙ্গে কি তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল? যদি তা না থাকে তবে নাজিবুল্লার বই কেন নিজের কাছে রাখবেন তিনি। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, সম্ভবত স্লিপার সেলকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং তরুণ সমাজের মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের দলে টানতে এসব বইয়ের সাহায্য নেওয়া হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই ধৃত শাহিনুরকে জেরা করে জানা গিয়েছে, তিনি শাদ রাডির ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ফলে ধৃত এবিটি নেতা এ রাজ্যে এসেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে আসন্ন মাদুরাই পার্টি কংগ্রেসে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মহম্মদ সেলিম। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক নিজে দিল্লি যেতে গররাজি না হলে পার্টি কংগ্রেসে সেলিম দিল্লির গোপালন ভবনে প্রথম বাঙালি সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন। সিপিএমের বয়সের মাপকাঠিতে প্রকাশ কারাট, বৃন্দা কারাট, মানিক সরকার, সুভাষিণী আলি–সহ বর্তমান পলিটব্যুরোর একাধিক নেতা আর দলের সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না।
পিনারাই বিজয়ন কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর পদে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোতে কাজ করার অভিজ্ঞতার নিরিখে সেলিম এগিয়ে। কেরালায় সিপিএমের ওজনদার নেতা এমএ বেবি–র সেই অভিজ্ঞতা নেই। জাতীয় রাজনীতিতেও সেলিমের যে অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি রয়েছে তা এই মুহূর্তে তাঁর সমবয়সি কেন্দ্রীয় কমিটির কোনও সদস্যর নেই।
এই সমীকরণেই সীতারাম ইয়েচুরির শূন্য জায়গায় সেলিম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতম বলেই সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক সদস্যর মূল্যায়ন। সেলিম যদি দিল্লির গোপালন ভবনে যান, সে ক্ষেত্রে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ব্যাটন কার হাতে যাবে বঙ্গ সিপিএমের অন্দরে সেই অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে। সুজন চক্রবর্তী, রামচন্দ্র ডোম, আভাস রায়চৌধুরী—এমন একাধিক নাম নিয়ে সিপিএমের জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতাদের মধ্যে চর্চা চলছে।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির একাধিক নেতার বক্তব্য, সেলিমের দিল্লি যাওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে দেখেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কর্তৃত্ব কার হাতে যাবে সেই অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে। এই সমীকরণের–ই প্রতিফলন সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলনে দেখা গিয়েছে বলে এই নেতাদের বক্তব্য।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির এক সদস্যের কথায়, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনার নতুন জেলা কমিটি থেকে ১৬ জন নাম প্রত্যাহার করলেও নিজের জেলায় সুজন চক্রবর্তী দলের মধ্যে সংখ্যালঘু এটা স্পষ্ট হয়েছে। দলের মধ্যে এটা একটা বার্তা গেল।’ রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে সুজন এখন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। একাধিক ইস্যুতে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্মেলন উত্তপ্ত হওয়ার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। সুজন সেই পরিস্থিতি কী ভাবে সামাল দেন সেই দিকে সিপিএমের অনেক নেতা তাকিয়ে রয়েছেন।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অন্য নেতাদের মধ্যে রামচন্দ্র ডোম পলিটব্যুরোর সদস্য হলেও দলীয় সংগঠন, গণসংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতা, ভোট রাজনীতির অভিজ্ঞতার নিরিখে সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ি আবার রামচন্দ্র অথবা আভাসের থেকে এগিয়ে বলে সিপিএমের একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ। শ্রীদীপ ভট্টাচার্য আবার একেবারেই দলের তাত্ত্বিক নেতা।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বৃত্তের বাইরে যাঁর কোনও পরিচিতি নেই বলে সিপিএমের নেতাদের পর্যবেক্ষণ। যদিও সিপিএমের একাধিক নেতার বক্তব্য, সিপিএমের আসন্ন রাজ্য সম্মেলনে–ই যে সেলিম রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরে যাবেন কোনও কথা নেই। আগামী ২২–২৫ ফেব্রুয়ারি হুগলির ডানকুনিতে সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনে সেলিম ফের সম্পাদক পদে নির্বাচিত হতে পারেন।
তবে পার্টি কংগ্রেসে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে তাঁকে দ্রুত রাজ্য সম্পাদকের পদ ছাড়তে হবে। তখন ডানকুনি সম্মেলন থেকে যে নতুন রাজ্য কমিটি নির্বাচিত হবে সেই কমিটিতে যে শিবিরের পাল্লা ভারী থাকবে, সেই শিবিরের নেতার হাতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ব্যাটন যেতে পারে।
সেই দিকে তাকিয়ে সিপিএমের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে দলের একাংশের বক্তব্য। তাই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলনের কোন্দল বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, সিপিএমের অভ্যন্তরীণ ঘুঁটি সাজানোর প্রতিফলন বলেই দলের একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ।
Tags
Share to other apps

